ক্রীড়া ডেস্কঃ খেলার মাঠে প্রস্তুতি নেই, অনুশীলন নেই; এসব অজুহাত নাকি হারার আগেই ঠিক করে রাখা থাকে? যে সমস্যার কথা জানা ছিল দেশ ছাড়ার আগেই, হারের পর সেই একই অজুহাত তুলে ধরে প্রশ্ন তুললেন খোদ অধিনায়ক! জাপানে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ দলের শোচনীয় হারের পর ঠিক এই নাটকীয় রূপই দেখা গেল। দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক লিটন দাস নিজেই মানসিকভাবে সবাইকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু হারের পর তার মুখেই আবার সেই একই ব্যর্থতার পুরোনো রেকর্ড!
জাপানে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগ কমে যেতে পারে, এ আশঙ্কা লিটন দাসের অজানা ছিল না। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়ার আগেই দল নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়ে লিটন বলেছিলেন, দেশ ছাড়ার আগেই আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, আমরা অনেক অনুশীলন করেছি। সেখানে হয়তো অনুশীলনের সুযোগ নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই তাদের মানসিকভাবে সেভাবেই প্রস্তুত হতে বলেছিলাম।
শুধু তা-ই নয়, জাপানের প্রতিকূল আবহাওয়া নিয়ে এর আগে অধিনায়কের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি সব দলের জন্যই একই। আবহাওয়ার ওপর কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই আমাদের যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী যতটুকু সময় পেয়েছি, তার মধ্যে যতটা সম্ভব প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
কিন্তু বৃহস্পতিবারে পাকিস্তানের কাছে ম্যাচটি হারার পরপরই লিটনের সুর বদলে গেল এক লহমায়! যে বাস্তবতা আগে থেকেই জানা ছিল, ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেটাই নাকি হয়ে দাঁড়াল হারের মূল কারণ!
উইকেটে অনুশীলনের অভাব আর রুমে বসে থাকার দোহাই দিয়ে পরাজিত দলের অধিনায়ক বলে উঠলেন, কখনোই আদর্শ নয়। তবে আপনি যদি দেখেন, আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা, তার সঙ্গে আমরা টসও হেরে গেছি। তাই আমাদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। উইকেটটাও একটু কঠিন ছিল।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তো তিনি আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করলেন, আমরা এখানে শেষ কয়েক দিন কোনো খেলাও দেখিনি এবং উইকেটে অনুশীলনের সুযোগও পাইনি। তাই কোনো ধারণা ছাড়াই প্রথম কয়েক ওভার ব্যাটিং করেছি। এরপর ধীরে ধীরে ব্যাটসম্যানরা উইকেট সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে।
অথচ মজার বিষয় হলো, একই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান দলও কিন্তু বৃষ্টির কারণে অনুশীলনের সুযোগ সেভাবে পায়নি এবং তারাও বৃহস্পতিবারই প্রথম মাঠে নেমেছিল! তাহলে কেবল বাংলাদেশের জন্য এই অজুহাত কেন? ম্যাচ শেষে যখন বোলিং ও মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অধিনায়কের দিকে কড়া প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হলো, তখন লিটনের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট ক্ষোভ। মাঝের ওভারের ব্যর্থতা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়, আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, ওভার বাউন্ডারি কম খেতাম, তাহলে সুযোগ বেশি ছিল।
আর মোস্তাফিজুর রহমানকে বোলিংয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকদের পাল্টা তোপ দিয়ে লিটন দাস একহাত নিয়ে বলেন, আজকে মোস্তাফিজ তিন উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না। এত দিন তো করে আসছে। আমার কাছে মোস্তাফিজই সেরা অপশন মনে হয়েছে, তাই করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য কোনো অপশন সেরা, আপনি করাবেন।
এশিয়ান গেমসে যে সোনা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দল জাপানে পাড়ি জমিয়েছিল, পাকিস্তানের ধাক্কায় তা এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে চুরমার। স্বপ্নের এই করুণ পরিণতি ও ব্যর্থতা মেনে নিয়ে অধিনায়কের শেষ আক্ষেপের সুর, অবশ্যই আমাদের সোনা পেতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। তবে চেষ্টা তো করেই যাব। আবার ভবিষ্যতে কোনো না কোনো দল আসবে, তারাও চেষ্টা করবে। কিন্তু যখন কিছু জিনিসের ঘাটতি থাকে, তখন অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ঘাটতি নাকি সদিচ্ছার অভাব? আর কত দিন পূর্বজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও মাঠের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য অনুশীলনের অভাবকে অজুহাত বানাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল? সেই উত্তর এখন কেবল সময়ের হাতেই ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃ নুসরাত জাহান মিশু
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
ফোন নাম্বারঃ 01868533641
Email: News@amadershomoykal.com
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়ঃ ৩০-৩১, দিলকুশা সি/এ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
Copyright © 2025 All rights reserved আমাদের সময় কাল