
চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের গোল পাহাড় এলাকায় একটি জমি ও সেখানে থাকা দোকানঘর ঘিরে মোঃ শরফুল হক (পিতা: মৃত তৈয়ব উল্লাহ) এর বিরুদ্ধে অভিনব কৌশলে প্রতারণা, অবৈধ দখল এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, চুক্তির শর্ত মানা তো দূরের কথা, পরিকল্পিতভাবে জমির মালিকদের অন্ধকারে রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমি ও দোকান ব্যবহার করে কোটি টাকার সুবিধা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ জুন চট্টগ্রামের গোল পাহাড় এলাকায় অবস্থিত একটি তফসিলভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে মোঃ শরফুল হকের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, জমিটির বিএস রেকর্ড ও খাজনা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ভূমি অফিসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হবে। এই টাকা জমির দুই মালিক মোঃ ওমর ফারুক এবং মোঃ শরফুল হকের যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই টাকা কখনোই জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
আরও অভিযোগ রয়েছে, জমিটির মালিক দুইজন থাকা সত্ত্বেও মোঃ শরফুল হক কৌশলে একজন মালিকের সঙ্গে আলাদা সমঝোতায় যান এবং যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলার শর্ত এড়িয়ে যান। চুক্তি অনুযায়ী বিএস ও খাজনা সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন না করেই তিনি জমির ওপর থাকা দোকানগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন। এ সময় দোকান ভাড়া দেওয়ার নামে প্রায় ৮০ লাখ টাকা অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেন তিনি, যা জমির প্রকৃত মালিকদের অজান্তেই করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিজের দখলে রেখে দোকান ভাড়া দিয়ে মোঃ শরফুল হক প্রায় আড়াই কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন। অথচ এই পুরো সময়ের মধ্যে মালিকপক্ষকে ভাড়া বাবদ মাত্র ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি বিপুল অর্থ এখনো পাওনা রয়েছে বলে মালিকরা দাবি করছেন। টাকা চাইতে গেলেই অভিযুক্ত ব্যক্তি হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখান বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি তিনি আইন ও আদালতকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে—এমন কথাও বলেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, যা আদালত অবমাননার শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক পর্যায়ে জমির মালিকরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে জমি ও দোকান খালি করার অনুরোধ জানালে মোঃ শরফুল হক আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেন এবং পরবর্তীতে আদালতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে জমির মালিক ও সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে তথ্য গোপন ও মিথ্যা উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলা করা মানহানিকর এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে।
এদিকে, দোকান ভাড়া নেওয়ার জন্য যারা মোঃ শরফুল হকের কাছে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন, তারাও নিজেদের অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এসব ভুক্তভোগীর কেউ কেউ আলাদাভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলেও জানা গেছে। ফলে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক পক্ষের অভিযোগ সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগীরা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেন, দেশে আইন ও বিচার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে প্রতারণা ও হয়রানি করতে পারে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও নিরপরাধ মানুষ এ ধরনের ফাঁদে পড়তে পারে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে সমাজ থেকে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃ নুসরাত জাহান মিশু
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
ফোন নাম্বারঃ 01868533641
Email: News@amadershomoykal.com
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়ঃ ৩০-৩১, দিলকুশা সি/এ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
Copyright © 2025 All rights reserved আমাদের সময় কাল