
চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা অ্যাংকরেজে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে চলাচলরত আরেকটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় ৩৫ হাজার ৩৫০ টন স্ল্যাগ বহনকারী আনাসা জাহাজের সঙ্গে নোঙর করা জাহাব জাহানের এ সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর দুই জাহাজই নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে। তবে আনাসার ডান পাশের কাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় নেভিগেশন ও পাইলটেজ সহায়তা নিয়ে চলাচলের সময় আনাসা নোঙর করে থাকা জাহাব জাহানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর দুই জাহাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণের কাজ শুরু হয়।
জাহাজ দুটির মধ্যে ২০০০ সালে নির্মিত বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাব জাহান ১৯০ মিটার দীর্ঘ। অন্যদিকে সংঘর্ষে জড়িত আনাসা ২০১১ সালে জাপানের ইওয়াগি শিপবিল্ডিংয়ে নির্মিত। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটির এর আগের নাম ছিল নিও বিচউড ও আইভিএস বিচউড।
জাহাজটির সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আনাসা বর্তমানে নিরাপদে ভাসমান রয়েছে। জাহাজটিতে কোনো ফ্লাডিং বা পানি ঢোকার ঘটনা ঘটেনি। তেল বা পানির অনুপ্রবেশেরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে জাহাজটি কোনো একদিকে কাত হয়নি। এর সামনের অংশের ড্রাফট ১১ দশমিক ৪০ মিটার, মধ্যভাগে ১১ দশমিক ৪৫ মিটার এবং পেছনের অংশে ১১ দশমিক ৫০ মিটার। অর্থাৎ তিন অংশের ড্রাফট প্রায় সমান রয়েছে। সংঘর্ষের পর ড্যামেজ স্ট্যাবিলিটি বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় জাহাজের স্থিতিশীলতার হিসাব করা হয়েছে। এতে জাহাজটি নিরাপদ সীমার মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের পর জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন, স্টিয়ারিং গিয়ার ও বিভিন্ন পাম্প পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সচল রয়েছে। জরুরি ব্যবস্থাগুলোও কার্যকর রয়েছে বলে জাহাজটির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শক্তিশালী স্রোতের মধ্যেও জাহাজটির অ্যাংকর নিরাপদে ধরে রয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর জাহাজটির তাৎক্ষণিক ডুবে যাওয়ার বা স্থিতিশীলতা হারানোর কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মাত্রা জানতে আরো বিস্তারিত পরিদর্শন প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ইস্পাতের আবরণ ও কাঠামোগত অংশের ক্ষতি কতটা গভীর এবং জাহাজটি পরবর্তী সময়ে সমুদ্রযাত্রার উপযোগী কি না, তা সার্ভে শেষে স্পষ্ট হবে।
এদিকে সংঘর্ষে জাহাব জাহানের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তথ্যানুযায়ী, আনাসার সামনের অংশ দিয়ে জাহাব জাহানকে আঘাত করার কথা জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট আঘাতের স্থান, কোন কোণে সংঘর্ষ হয়েছে এবং দুই জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে জানা যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বণিক বার্তাকে বলেন, 'দুর্ঘটনার কারণ এবং নেভিগেশনের সময় দুই জাহাজের অবস্থান, গতি, স্রোতের পরিস্থিতি ও পাইলটেজ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আসবে। দুর্ঘটনার পর সহায়তা দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগ কান্ডারি-৮ এবং বিএলভি লুসাই ঘটনাস্থলে রয়েছে।'
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃ নুসরাত জাহান মিশু
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
ফোন নাম্বারঃ 01868533641
Email: News@amadershomoykal.com
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়ঃ ৩০-৩১, দিলকুশা সি/এ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
Copyright © 2025 All rights reserved আমাদের সময় কাল