নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুর-কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর বাজার রোডের প্লট নং ৯১১/৯১২ এলাকায় রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই চারতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন ভবনটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা, সেফটি ট্যাংক না থাকা, বিল্ডিল এর পাইলিং না করা এবং রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জায়গা না ছাড়ার ও বিল্ডিং কোর্ট অনুযায়ী বভন নির্মান করছেন না যে কোন সময় বভনিটি দসে পরতে পারে এ অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের দোকানদাররা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় চার মাস ধরে চললেও নির্মাণস্থলের চারপাশে পর্যাপ্ত সেফটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভবনটি নিচতলা থেকে ওপরের দিকে যতই নির্মাণ করা হচ্ছে, ততই ভবনের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পাশের বাড়িঘর ও সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নকশা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় নির্মাণকাজে নিয়োজিত কন্ট্রাক্টরের কাছে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র লরয়েছে। তবে গণমাধ্যমকর্মীরা সেসব কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ।
নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন করা হলে কন্ট্রাক্টর সুস্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এদিকে গণমাধ্যমকর্মীরা ভবনটির মালিক আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসে নির্মাণকাজের অনুমোদন, নকশা কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রের বিষয়ে কোনো জবাবদিহি করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি একটি দোকানে অবস্থান করে গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে অন্যত্র চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনাস্থলে পাশের একটি বাড়ির এক ব্যক্তি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নির্মাণকাজে ভুলত্রুটি থাকার ককথা স্বীকার করেছেন বলেও উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান। তবে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
দুর্ঘটনার আশঙ্কায় স্থানীয়রা
ভবনটির আশপাশের বাসিন্দা ও দোকানদারদের অভিযোগ, কোনো কার্যকর সেফটি ব্যবস্থা ছাড়াই ওপরের দিকে নির্মাণকাজ চলায় যেকোনো সময় ইট, বালু বা নির্মাণসামগ্রী নিচে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পাশের একাধিক দোকানদার বলেন, “আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ওপর থেকে কোনো ইট বা নির্মাণসামগ্রী পড়ে মাথায় লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নির্মাণকাজ করার সময় অবশ্যই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনটির অনুমোদন, নকশা, নির্মাণের সীমা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করুক। অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ির মালিক মো. শহীদ খানের (৬৫) সঙ্গে বিরোধ চলছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
মো. শহীদ খানের অভিযোগ, আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ভবন নির্মাণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার দাবি, তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে তিনি আইনগত সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে রাজউকের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কীভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে আরেক বাড়ির মালিক মোস্তাফিজের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলতে চাইলে তিনি সরাসরি কথা না বলে একজনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন । তিনি ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরেন।
জমির রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির সি.এস., এস.এ., আর.এস. ও মহানগর জরিপের রেকর্ডে মো. শহীদ খাম ও আলমগীর হোসেন গং-এর নাম রয়েছে। তবে জমির বর্তমান মালিকানা, ভবন নির্মাণের বৈধতা এবং রাজউকের অনুমোদন—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও ভবন নির্মাতা আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে রাজউকের অনুমোদিত নকশা বা জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কি না, নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় সেফটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলে সেই অবস্থায় নির্মাণকাজ চালানোর আইনগত বৈধতা কী—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখবে কি না।
স্থানীয়দের দাবি, রাজউক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনটির অনুমোদন, নকশা, নির্মাণসীমা, সেফটি ব্যবস্থা এবং জমির কাগজপত্র যাচাই করুন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃ নুসরাত জাহান মিশু
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
ফোন নাম্বারঃ 01868533641
Email: News@amadershomoykal.com
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়ঃ ৩০-৩১, দিলকুশা সি/এ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
Copyright © 2025 All rights reserved আমাদের সময় কাল