
বিশেষ প্রতিবেদকঃ বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচিত মুখ কামাল হোসেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক সময় ছোট একটি মোবাইল রিচার্জের দোকান চালালেও অল্প কয়েক বছরের মধ্যে তার বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে জমা পড়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কামাল হোসেনের আয়ের উৎস স্বাভাবিক ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, সোনা চোরাচালান এবং সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, তিনি নাভারণ কলেজে বিএ শ্রেণির ছাত্র (রোল নম্বর: ২০-০-২৩-৯২৫-০০৫) হলেও সাংবাদিকতার ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে প্রভাবশালী সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় দেখিয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সোনা ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচারের একটি চক্র পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, চন্দন কাঠ পাচারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেনাপোল কাস্টম হাউসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। সম্প্রতি কাস্টমসে আটকে যাওয়া একটি পার্টসের চালান ছাড় করাতে অবৈধ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা নিয়েও আলোচনা চলছে। এসব কার্যক্রমের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
কামাল হোসেনের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বেনাপোলের দিঘীরপাড় এলাকায় তার তিনতলা বাড়ি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়া যশোর শহরের আরবপুর ও পুলিশ লাইন এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন ও ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও তার নাম আলোচনায় এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ তিনি নিজের নামে না রেখে স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে ক্রয় করেছেন। একই সঙ্গে তার দামী প্রিমিও গাড়ি ও অন্যান্য বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়েও জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর তা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সম্ভাব্য তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, সম্পদের নথি, আর্থিক লেনদেন ও কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
স্থানীয় অনেকেই বলছেন, একসময় সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে এত অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এখন সবার নজর দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
