আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হুমকি ও আক্রমণের মুখে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য আরও অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কা সত্ত্বেও, সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল থেকে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।
ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের ওপর অবরোধ (ব্লকেড) ঘোষণার কয়েক দিন পর, পশ্চিমা জাহাজ মালিকেরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের বাব এল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে চলার অথবা তাঁদের জাহাজের ট্রান্সপন্ডার (অবস্থান ট্র্যাকিং ব্যবস্থা) বন্ধ রেখে ওই প্রণালি অতিক্রম করার পরিকল্পনা করছেন বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে চীনসহ যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, সেসব দেশের মালিকানাধীন জাহাজগুলো রিয়াদের তেল বহন করে এখনও এই প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে।
গত সোমবার হুথিদের অবরোধ ঘোষণার যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, তার পরবর্তী সময়ে অন্তত একটি সৌদি জাহাজে হামলার ঘটনার পর—এই অঞ্চলে নৌ-পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলবাহী ট্যাঙ্কার মালিক ও ব্যবসায়ীরা চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, আর এই পরিস্থিতির মাঝে আন্তর্জাতিক তেল বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে লোহিত সাগরে সৌদির ইয়ানবু বন্দর। অবরোধ ঘোষণার দুদিন পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেওয়া সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানির সাতটি বার্থের (জাহাজ ভেড়ানোর স্থান) মধ্যে চারটিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার নোঙর করে রাখা ছিল।
সৌদি অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি গ্রিক ট্যাঙ্কার সংকীর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণাল অতিক্রম করার সময় নিজের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে লোহিত সাগর থেকে বের হয়ে যায়। জাহাজ ট্র্যাকিং সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, 'মেরবাবু' নামের এই ট্যাঙ্কারটি লোহিত সাগরে নিজের অবস্থান সম্প্রচার করার পর বৃহস্পতিবার আরব সাগরে দৃশ্যমান হয়। অর্থাৎ, যাত্রাপথের মাঝের সময়টায় বন্ধই ছিল জাহাজের ট্রান্সপন্ডার। ভেসেল চার্টারতালিকা থেকে জানা যায়, জাহাজটি ভারতের দিকে যাচ্ছে।
এ ছাড়া, সৌদি অপরিশোধিত তেল বহনকারী হংকংয়ের মালিকানাধীন সুপারট্যাঙ্কার 'নিউ এক্সপ্লোরার' গত মঙ্গলবার থেকে অলস বসে থাকার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে। এর আগে চীনের দুটি ট্যাঙ্কার একই পথে বের হয়ে যায়। তবে সৌদি আরব ব্যতীত অন্যান্য দেশের তেল পরিবহনে এই নৌপথে বেশ চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে; একাধিক জাহাজ রুশ তেল বহন করে ভারতসহ অন্যান্য গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে।
কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে জাহাজ মালিকদের
ঝুঁকি নিয়ে বাব এল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ পরিচালিত করবেন, নাকি এশিয়ার গন্তব্যগুলোতে পৌঁছাতে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ পথ বেছে নেবেন— সৌদি তেল পরিবহনকারী পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে মালিকদের এই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পথ পরিবর্তনের ফলে তাদেরকে সুয়েজ খাল হয়ে উত্তর দিকে ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা কোনো কোনো জাহাজের যাত্রার সময় প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
লোহিত সাগরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় ডেনমার্কের মালিকানাধীন ট্যাঙ্কার 'টর্ম ইনোভেশন' ইয়ানবু বন্দরে তেল লোড করার পর সুয়েজ খালের উত্তর রুটের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয় বলে ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে। জাহাজ ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, এই ট্যাঙ্কারটির জাপানের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে।
'টর্ম ইনোভেশন' যদি সুয়েজ খাল হয়ে বের হয়, তবে তা এশিয়াগামী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ 'গ্যাস কিং'-এর নেওয়া পদক্ষেপের অনুরূপ হবে। দুদিন আগে পথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গ্যাস কিং এবং ইতোমধ্যেই ট্যাঙ্কারটি সুয়েজ খাল অতিক্রম করা শুরু করেছে।
লোহিত সাগরের এই অনিশ্চয়তার কারণে, কিছু এশীয় তেল ক্রেতা লোহিত সাগরের বাইরে থেকে সৌদির অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের কথা বিবেচনা করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কেউ কেউ তেল পরিবহন আফ্রিকা হয়ে নতুন পথে ঘুরিয়ে দিতে সৌদি আরামকোর সঙ্গে আলোচনাও চালাচ্ছে।
ব্লুমবার্গের দেখা বুকিং সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসরের উত্তর উপকূল থেকে তেল সংগ্রহ করে উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য অন্তত একটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজকে (ভিএলসিসি) সাময়িকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে এ ধরনের প্রথম চার্টার বা চুক্তি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃ নুসরাত জাহান মিশু
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
ফোন নাম্বারঃ 01868533641
Email: News@amadershomoykal.com
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়ঃ ৩০-৩১, দিলকুশা সি/এ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
Copyright © 2025 All rights reserved আমাদের সময় কাল