
নববর্ষ প্রতিবেদকঃ নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বৈশাখী শোভাযাত্রা। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে এ শোভাযাত্রা শুরু হয়।
দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক এই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হাজারো মানুষের কণ্ঠ মিলিয়ে ওঠে দেশাত্মবোধক আবেগে ভরা এক অনন্য পরিবেশ। শোভাযাত্রায় অংশ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ সকাল থেকেই চারুকলা এলাকায় সমবেত হন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শুরুতে রয়েছে জাতীয় পতাকা। হাতে ছিল রঙিন মুখোশ, প্রতীকী মোটিফ, গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপন এবং বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ। এবারের শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা এবং সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয় বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও প্রতীকের মাধ্যমে।
বিশেষভাবে পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ শোভাযাত্রায় যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা ও বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের দৃশ্যমান প্রকাশ। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চারুকলা এলাকা ও আশপাশের সড়কে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখী শোভাযাত্রা বাঙালির ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
এর আগে, ভোরে সূর্যোদয়ের পর রমনার বটমূলে ছায়ানটের আনুষ্ঠানিকতায় শুরু হয় বর্ষবরণ আয়োজন। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় এ আয়োজন। ছায়ানটের শিক্ষার্থী শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পীসহ প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩–কে বরণ করে নেয়ার প্রভাতি এ অনুষ্ঠানের এবারের মূল ভাবনা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় গানে গানে।
