
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আদেশে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব প্রদানের আইনগত বৈধতা নিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ—তার মধ্যেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের তিন প্রকৌশলীকে উচ্চতর পদে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় কোন আইনি ভিত্তিতে পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্বের ফাইল এগোচ্ছে?
আরও গুরুতর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়োগের বৈধতা, ক্যাডার স্ট্যাটাস, বিভাগীয় পরীক্ষা ও পদোন্নতির যোগ্যতা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিন প্রকৌশলীর একজন মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে পৃথক তদন্ত চলমান থাকার তথ্যও সরকারি নথিতে রয়েছে।
সব মিলিয়ে গণপূর্তের ই/এম বিভাগে কথিত ‘পদোন্নতি প্যাকেজ’ নিয়ে প্রশ্ন এখন সরাসরি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে। এ প্রক্রিয়ায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সরোয়ার আলম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

ট্রাইব্যুনালের শোকজ, তবু থামছে না ফাইল? প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১, ঢাকায় দায়ের করা এ.টি. মামলা নং-২৭৯/২০২৬—Md. Abdul Halim and 09 others বনাম Secretary, Ministry of Housing & Public Works and others—এ গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আদালত মামলাটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, ৩ মার্চ ২০২৬-এর একটি স্মারক এবং তার ভিত্তিতে গ্রেড-৪-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্ব দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। আদালতের নির্দেশের পরও যদি একই বিষয়ে প্রশাসনিক ফাইল সক্রিয় থাকে কিংবা ডিপিসির মাধ্যমে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়, তাহলে সেই পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি কী—এ প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মামলার পরবর্তী সার্ভিস রিটার্নের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর ২০২৬।
যে স্মারক ঘিরে মূল বিরোধ মামলার নথি অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্মারক নং ২৫০৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-৩৫২ জারি করা হয়। ওই স্মারকে মত দেওয়া হয়, Bangladesh Civil Service (Examination for Promotion) Rules, 2017 গ্রেড-৬-এর সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম)-দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রেড-৪-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়।
এখানেই তৈরি হয়েছে মূল আইনগত জটিলতা। বাদীপক্ষের দাবি, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীরা ক্যাডার সার্ভিসে এনক্যাডারভুক্ত নন। ফলে Bangladesh Civil Service Recruitment Rules, 1981 এবং Bangladesh Civil Service (Examination for Promotion) Rules, 1986, যা ২০১৭ সালে সংশোধিত হয়েছে—এসব বিধির আলোকে তারা কীভাবে ক্যাডারের গ্রেড-৪ পদে পদোন্নতির যোগ্য হন, সেটিই প্রশ্ন। ট্রাইব্যুনালের কারণ দর্শানোর নির্দেশে এই প্রশ্নই কার্যত বিচারিক পর্যালোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
আদালতের প্রশ্নের মধ্যেই ‘চলতি দায়িত্বের’ প্রস্তাব : অন্যদিকে সরকারি নথিতে দেখা যায়, এরও আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখা-১ থেকে ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-১৩৫৭-এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে তিনজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। নথি অনুযায়ী, রিজার্ভসহ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম)-এর অনুমোদিত পদ ১১টি। এর মধ্যে সাতটি পদে নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন কারণে চারটি পদ শূন্য হওয়ার পর একটি পদে পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরপরও তিনটি পদ শূন্য থাকায় ‘সরকারি কাজের স্বার্থে’ জরুরি ভিত্তিতে তিনজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।প্রস্তাবিত তিন কর্মকর্তা হলেন— মো. জিয়াউর রহমান—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম ডিজাইন বিভাগ-১, ঢাকা; প্রস্তাবিত দায়িত্ব—ঢাকা গণপূর্ত ই/এম সার্কেল-২। মো. জাহাঙ্গীর আলম—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর; সংযুক্ত—গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ; প্রস্তাবিত দায়িত্ব—চট্টগ্রাম গণপূর্ত ই/এম সার্কেল। মো. তাসফিন মুহাইমীন হক—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম প্ল্যানিং বিভাগ-৩; প্রস্তাবিত দায়িত্ব—রাজশাহী গণপূর্ত ই/এম সার্কেল। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লব।
তদন্তাধীন জাহাঙ্গীর, তবু উচ্চতর দায়িত্বের প্রস্তাব! তিন কর্মকর্তার মধ্যে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে পৃথক অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকার তথ্য সরকারি নথিতেই রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখার স্মারক নং ২৫.০০.০০০০.০০০.১০২.৩১.০০৬.২৬-১৭-এর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ তদন্তে কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। নথিতে ৫ মার্চ ২০২৬-এর স্মারক নং ২৫.০০.০০০০.১৩০.২৭.০০৩.২৪-১৭৮ এবং ২০ জুন ২০২৬-এর স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০০.০০০.২২০.২৭.০০২৩.২৬.২১০-এর উল্লেখ রয়েছে। ৯ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ একদিকে অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া, অন্যদিকে একই কর্মকর্তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব—দুই প্রক্রিয়া পাশাপাশি চলেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওই তদন্তের বিষয়টি কি চলতি দায়িত্ব বা পদোন্নতির ফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে? তদন্তের ফলাফল কি ডিপিসির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে? কোনো শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা প্রস্তাবিত বা চলমান থাকলে সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
‘ডিপিসি ফাইল’ নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এর মধ্যেই মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে অভিযোগ উঠেছে, তিন কর্মকর্তাকে উচ্চতর পদে নেওয়ার জন্য ডিপিসি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি নিয়োগ, ক্যাডার স্ট্যাটাস, বিভাগীয় পরীক্ষা, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা এবং পদোন্নতির বিধিগত যোগ্যতা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই তাদের ডিপিসিতে বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এখানে মূল প্রশ্ন হলো—কোন বিধির অধীনে তাদের ডিপিসিতে বিবেচনা করা হচ্ছে ? আরও বড় প্রশ্ন—৩১ আগস্টের ট্রাইব্যুনাল আদেশে যেখানে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব প্রদানের পরবর্তী পদক্ষেপের আইনগত বৈধতা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে, সেখানে একই বিষয়ে নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার আইনি ভিত্তি কী ?
কোটি টাকার ‘প্যাকেজ’—প্রমাণ নেই, তদন্তের দাবি আছে : তিন প্রকৌশলীর পদোন্নতি ঘিরে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে ডিপিসি-সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য অর্থ লেনদেনের কথাও আলোচিত হয়েছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে এখানে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় উপস্থাপিত হয়নি। ফলে এগুলোকে প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে নয়, বরং তদন্তযোগ্য অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু পদোন্নতি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক অনিয়মের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকারি পদে দায়িত্ব প্রদান ও পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ হিসেবেও তা তদন্তের দাবি রাখে।
নিয়মিত ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের আশঙ্কা বিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়মিত বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নিয়মিত ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি যেখানে নির্দিষ্ট বিধি, জ্যেষ্ঠতা, বিভাগীয় পরীক্ষা ও অন্যান্য যোগ্যতার সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেখানে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একই ক্যাডারের উচ্চতর পদে নেওয়া হলে জ্যেষ্ঠতা ও ক্যাডার কাঠামো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এখানে ব্যক্তিবিশেষকে পদোন্নতি দেওয়া হবে কি না—তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কোন বিধির অধীনে, কোন যোগ্যতায় এবং কোন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তাদের উচ্চতর পদে নেওয়া হচ্ছে।
আগের অভিযোগের তদন্ত কোথায় ? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব প্রদানের অভিযোগ নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্টদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না—তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে সরকারি নথিতে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির সভার তথ্য রয়েছে। একই কর্মকর্তাকে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবের নথিও রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলা। ফলে এখন প্রশ্ন শুধু পদোন্নতির নয়; প্রশ্ন হলো পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ, বিধিসম্মত এবং নথিনির্ভর।
মন্ত্রণালয়ের কাছে একগুচ্ছ প্রশ্ন : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে প্রশ্ন উঠছে- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১-এর এ.টি. মামলা নং ২৭৯/২০২৬ এবং ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর স্মারক নং এ.টি-১/৩১২/২০২৬ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্বের ফাইলের কার্যক্রম কোথায় রয়েছে ? ৩ মার্চ ২০২৬-এর স্মারক নং ২৫.০৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-৩৫২ কোন বিধি ও আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে ? সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন বিধির অধীনে ক্যাডারের উচ্চতর পদে পদোন্নতির যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন ? ২৬ অক্টোবর ২০২৫-এর স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-১৩৫৭-এর চলতি দায়িত্বের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের চলমান কার্যক্রম বিবেচনা করা হয়েছিল কি ? মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন অভিযোগ তার পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্বের ফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে কি না ? ডিপিসি আহ্বান বা ফাইল নোট প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও ট্রাইব্যুনালের আদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে কি ? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পদোন্নতি ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ যাচাইয়ে কোনো প্রশাসনিক বা দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধান হয়েছে কি ?
এখন প্রয়োজন নথিভিত্তিক নিরপেক্ষ তদন্ত : গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকৌশল সংস্থায় পদোন্নতি কোনো ব্যক্তির চাকরিজীবনের সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে জড়িত জ্যেষ্ঠতা, ক্যাডার কাঠামো, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা। তাই অভিযোগ সত্য না মিথ্যা—সেটি তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। একইভাবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই।
- গণপূর্ত ই/এমে ‘পদোন্নতি প্যাকেজ’! ট্রাইব্যুনালের শোকজের মধ্যেই ডিপিসি তৎপরতা, তিন প্রকৌশলীকে ঘিরে কোটি টাকার অভিযোগ
কিন্তু যখন একই বিষয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন, ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলেছেন, একজন প্রস্তাবিত কর্মকর্তাকে ঘিরে সরকারি নথিতে তদন্তের তথ্য রয়েছে এবং এর মধ্যেই পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্বের ফাইল এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে—তখন বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগও নেই। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্ভিস রেকর্ড, নিয়োগের বৈধতা, ক্যাডার স্ট্যাটাস, বিভাগীয় ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষার তথ্য, ডিপিসির কার্যবিবরণী, ফাইল নোট, চলমান তদন্ত এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশ—সবকিছু একসঙ্গে পর্যালোচনা করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান। এখন দেখার বিষয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলোর নথিভিত্তিক যাচাই করবে, নাকি বিচারিক ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও কথিত ‘পদোন্নতি প্যাকেজ’-এর প্রশাসনিক উদ্যোগ এগিয়ে যাবে।
