
ডেস্ক নিউজ : নারায়গঞ্জের আড়াইহাজারে এক বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন।
পরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলে পুনরায় চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছোট ভাই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চামুরকান্দি এলাকার ফিরোজা বেগম পেটব্যথার চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে আসেন। দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীর স্বামী বিল্লাল হোসেনকে একটি ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন।
বিল্লাল হোসেন ইনজেকশন কিনে এনে সেটি প্রয়োগ করার অনুরোধ করেন। তবে ওই সময় জরুরি বিভাগে অন্য এক গুরুতর রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন আব্দুল্লাহ আল কামাল। এ কারণে ইনজেকশন পুশ করতে তার দেরি হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিল্লাল হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আব্দুল্লাহ আল কামালের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মী চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ চালু রেখে হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুর রহমান ও আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবজেল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসাসেবা শুরু করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া বলেন, তারা আমার ভাইয়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমার ভাই তাকে মারধর করেনি।
আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে জানানো হয়েছে। তিনি টেলিফোনে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
