
ক্রীড়া ডেস্ক : ৬ অক্টোবর থেকে ৭ জুন—মাত্র আট মাসের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের দ্বিতীয় নির্বাচন দেখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ৭ জুনের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে আজ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৮৪ জনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন।
নতুন ভোট, তবে প্রক্রিয়া অনেকটা পুরোনোই। আর সে প্রক্রিয়া শুধু গঠনতান্ত্রিকভাবেই পুরোনো নয়, নির্বাচনী ‘কৌশলের’ ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যে কারণে মাত্র আট মাসের মধ্যে হতে যাওয়া আরেকটি নির্বাচনে কাউন্সিলর বদলে গেছে বেশির ভাগ জায়গারই।
সাত বিভাগীয় কাউন্সিলরের সাতজনই যেমন নতুন। ৬৪ জেলার মধ্যে যে ৫৯টি থেকে কাউন্সিলরের নাম এসেছে, সেখানেও আগেরবার কাউন্সিলর ছিলেন, এমন নাম আছে মাত্র পাঁচটি। কাউন্সিলরদের চূড়ান্ত তালিকায় নেই কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী আর মুন্সিগঞ্জের কারও নাম।
তবে বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, সাবেক খেলোয়াড়, সাবেক অধিনায়কদের নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-৩–এর কাউন্সিলর তালিকায় এমন অনেক নামই আছে, যাঁরা সর্বশেষ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকায়ও ছিলেন। সাবেক অধিনায়ক হিসেবে যেমন এবারও কাউন্সিলর হয়েছেন শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন ও হাবিবুল বাশার। রকিবুল হাসান ও মোহাম্মদ আশরাফুলের জায়গায় এসেছেন খালেদ মাহমুদ ও মাহমুদউল্লাহ।
এ ছাড়া সাবেক ক্রিকেটার কোটায় কাউন্সিলর হয়েছেন বিসিবির অন্তর্বর্তী কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের ভাই নাফিস ইকবাল খান, নাজিমউদ্দিন, তালহা জুবায়ের, দুই নির্বাচক নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী, সৈয়দ রাসেল, নাজমুল হোসেন, ডলার মাহমুদ, শামসুর রহমান ও ধারাভাষ্যকার মাজহার উদ্দিন। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের প্রতিনিধি হিসেবে কাউন্সিলর হয়েছেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির আটজনই আছেন কাউন্সিলরদের তালিকায়। তাঁরা হলেন ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব থেকে তামিম ইকবাল, আবাহনী থেকে ফাহিম সিনহা, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব থেকে তানজিল চৌধুরী, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, এক্সিউম ক্রিকেটার্স থেকে ইসরাফিল খসরু, ইন্দিরা রোর্ড ক্রীড়াচক্র থেকে রফিকুল ইসলাম বাবু, ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব থেকে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মিনহাজুল আবেদীন। মিনহাজুল বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্সিলর হয়েছিলেন।
অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের মধ্যে কাউন্সিলর হননি জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান, মির্জা সালমান ইস্পাহানি ও রাশনা ইমাম।
আমিনুল ইসলামের সর্বশেষ বোর্ডে পরিচালক নির্বাচিত হওয়া মাত্র পাঁচজনই এবার কাউন্সিলর হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা হলেন আমজাদ হোসেন, ফৈয়াজুর রহমান, শানিয়ান তানিম নাভিন, আবুল বাসার ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। মজার ব্যাপার হলো, প্রাইম দোলেশ্বরের আবুল বাসার ছাড়া বাকি চারজনই শেষ দিকে আমিনুলের পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
কাউন্সিলর তালিকায় দেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠকদের উপস্থিতি খুবই কম। আগে বিসিবির পরিচালক হয়েছেন, এমন সংগঠকদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম বাবু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর, ফাহিম সিনহা ও হানিফ ভূঁইয়া ছাড়া আছেন কেবল পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের আজিজ আল কায়সার।
অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠকদের মধ্যে কাউন্সিলর তালিকায় নাম আছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের লুৎফর রহমান ও মোহামেডানের মাসুদুজ্জামানের। এনায়েত হোসেন সিরাজ, মাহবুবুল আনাম, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম, জালাল ইউনুস, লোকমান হোসেন ভূঁইয়াদের মতো সংগঠকেরা যে এবার থাকবেন না, সেটা অবশ্যই আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। তবে আলফা স্পোর্টিং ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হয়েছেন মাহবুব আনামের ছেলে মাশরুর আনাম চৌধুরী।
তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল খসড়া ভোটার তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণের দিন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে এটি চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
