
নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের সুবিদপুর গ্রামে অবস্থিত সুবিদপুর ওল্ড স্কিম দাখিল মাদ্রাসা-এর পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমাজের শিক্ষিত, সৎ, সচ্ছল, সুনামধন্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একজন যোগ্য সভাপতির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে—এমন প্রত্যাশাই থাকে সবার।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এবারের কমিটি গঠনে সেই নীতি ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভাপতি নির্বাচনে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অতীতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করেছেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তিনি বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও, পাশ্ববর্তী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকেও একজন শিক্ষার্থীকে শাসনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন পেশাদার সংবাদকর্মী হয়ে থাকেন, তবে অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস বা প্রশাসনের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু তার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তির সমর্থন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সুপারিশ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই বিতর্কিত নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, সুবিদপুর গ্রামে অনেক শিক্ষিত, সুশীল, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং সম্মানিত ব্যক্তি রয়েছেন, যারা এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য অধিকতর যোগ্য ছিলেন। কিন্তু তাদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ব্যক্তির নেতৃত্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে। শিক্ষকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান অবনতি এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকেই।
এ প্রসঙ্গে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের ক্ষেত্র হতে পারে না। বরং এটি হওয়া উচিত জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার কেন্দ্র। তাই প্রতিষ্ঠানটির সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
