
বিশেষ প্রতিবেদকঃ প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত এলজিইডি কিশোরগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় Haor Infrastructure and livelihood Improvement Project (HILIP) প্রকল্পে কাজ না করে ভুয়া LCS কমিটির মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি মোঃ আব্দুল হামিদের এলাকা ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টোগ্রামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন, অত্যন্ত নিম্নমানের Submergible Road নির্মাণ যা ১ বছরের মধ্যে অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প, আমফান প্রকল্প, আইআরআইডিপি প্রকল্প, জিওবি মেইন্টেনেন্সসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে শত শত কোটি টাকার অগ্রিম বিল প্রদান করেছেন এবং সেখান থেকে ঠিকাদারের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা হিসেবে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ২টি প্রকল্পের মধ্যে তিনি প্রায় ৬ কোটি টাকা অগ্রীম বিল প্রদান করেছেন। যা তার কর্মকালীন সময়ে খুবই সামান্য। ময়মনসিংহ অঞ্চল প্রকল্পের আওতায় আব্দুল্লাহপুর উত্তরপাড়া থেকে ঘোষের কান্দি সড়ক। যার দৈর্ঘ্য ২ কিলোমিটার। উপজেলা অষ্টগ্রাম। ঠিকাদার-সরকার কনস্ট্রাকশন। অগ্রিম বিল প্রদান ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।
আমফান প্রকল্পের আওতায় কাঠখাল বাজার থেকে বই রাত ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক সাড়ে ৪ কিলোমিটার মেরামত। উপজেলা মিঠামইন। ঠিকাদার-মোজাহার এন্টারপ্রাইজ।
অগ্রীম বিল প্রদান ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এরকম বিভিন্ন প্রকল্পে তিনি কোটি কোটি টাকার অগ্রীম বিল প্রদান করেছেন। প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ এবং তাঁর ছেলেদের ছত্রছায়ায় থেকে এলজিইডির কাউকে পরোয়া করেননি। আমিরুলের কাছে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী থেকে প্রকল্প পরিচালক সবাই ছিলেন অসহায়। তার বিরুদ্ধে এলজিইডি, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুদক থেকে কয়েকবার তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও বঙ্গভবনের নির্দেশে সে সব তদন্ত ধামাচাপা পড়ে গেছে। আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া অভিযোগসমূহ পুণ:তদন্ত করলেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে সচেতনমহল মনে করেন। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর পরই প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম বোল পাল্টে এখন বিএনপি ঘরনার লোক বনে গেছেন। নানা অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে এই প্রতিবেদক তার অফিসে গেলে তিনি সাক্ষাত দেননি।
