
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ৪৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দেশটি থেকে ১৪ হাজার ৯০৫ জন বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
২০ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৯৭৬ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৪ হাজার ১১০ জনকে। আর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ জন।
এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৪৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪১ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। দেশটি থেকে অবৈধভাবে বের হওয়ার চেষ্টার সময় আরও ৪৪ জনকে আটক করা হয়।
আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া কিংবা কাজে নিয়োগের অভিযোগে ২৭ জনকেও আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃত ১৪ হাজার ৯০৫ জনের পাশাপাশি ১৮ হাজার ৯১৪ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রমণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও ২ হাজার ৮৬৭ জনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত আরও ২৯ হাজার ৯৩৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আবাসন ও অভিবাসন আইন কার্যকরের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ২৭ হাজার ৯৫৭ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৮১ জন নারী।
সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে দেশজুড়ে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে। আবাসন অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে এসব অভিযান চালানো হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।
