
বিশেষ প্রতিবেদকঃ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম আলিফকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধিদপ্তরের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় নেতা হিসেবে আলিফ প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফকে সাভার থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়। এরপর থেকেই অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের দাবি, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, সাভারে দায়িত্ব পালনকালে আলিফ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের সুযোগ করে দেন। বিশেষ করে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও প্রায় ৩০ কোটি টাকার অগ্রিম বিল ছাড়ের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সাভারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজ ও অসম্পূর্ণ প্রকল্পের বিপরীতে সরকারি অর্থ ছাড় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব কাজের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন প্রধান কার্যালয় নির্মাণের প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি বড় টেন্ডারকে কেন্দ্র করেও আলিফকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে তাকে পরিকল্পিতভাবে ঢাকায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে গোপন আর্থিক লেনদেনের কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
কর্মকর্তাদের একটি অংশের ভাষ্য, মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ অতীতে সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালেও নানা অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি শাস্তি এড়িয়ে যান। বরং পরবর্তীতে পদোন্নতিও পান। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আলিফের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বর্তমানে অধিদপ্তরের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা টেন্ডার ও প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করছে। কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে নানা উপায়ে চাপের মুখে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক কর্মকর্তা নিজেদের নিরাপত্তা ও চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে তার সম্পদের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
